দুই বছরের বিধ্বংসী গাজা যুদ্ধ ইসরায়েলকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে। যুদ্ধের স্থবিরতা, আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ মিলিয়ে দেশটি এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।
২০২৫ সালের আগস্টে হাজারো ইসরায়েলি নাগরিক “গাজা নীতি”র বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে, যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। এক জরিপে দেখা যায়, ৭৪ শতাংশ ইসরায়েলি হামাসের সঙ্গে বন্দিমুক্তি ও যুদ্ধশেষে চুক্তির পক্ষে।

সামরিক বাহিনীর মধ্যেও ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও ক্রমবর্ধমান হতাহতের কারণে সেনাদের মনোবল ভেঙে পড়েছে, আত্মহত্যার হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের ইস্যুতে দেশটির ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের বিভাজন আরও গভীর হয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের জিডিপি ১৯.৪ শতাংশ হ্রাস পায়, যা গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন। অবরোধ, সামরিক ব্যয় ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে বিনিয়োগ কমেছে, বেকারত্ব বেড়েছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের এলাত বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, ফলে বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘ ও একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গাজায় ইসরায়েলের অভিযানকে “গণহত্যা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ভেতরেও ইসরায়েলবিরোধী জনমত দ্রুত বাড়ছে। ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে ক্রমেই বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় মধ্যপ্রাচ্যে একক সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত ইসরায়েল এখন নিজ দেশের ভেতরেই অস্থিরতা, অবিশ্বাস ও বিভাজনের রাজনীতিতে জর্জরিত। যুদ্ধের অজুহাতে শুরু হওয়া নীতিগুলো এখন রাষ্ট্রের ভেতরেই ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে।







