চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র ব্রাশফায়ারের নির্দেশ দিয়েছেন নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ। মঙ্গলবার দুপুরে নিজস্ব বেতার বার্তায় তিনি থানা ও টহল পুলিশের সদস্যদের উদ্দেশে এই নির্দেশ দেন।
বেতার বার্তায় কমিশনার বলেন, ‘শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।’ তিনি আরও নির্দেশ দেন, টহল টিমগুলোকে এসএমজি ছাড়াও শটগান, দুইটি গ্যাসগান এবং টিম ইনচার্জকে নাইন এমএম পিস্তল বহন করতে হবে। পাশাপাশি স্থায়ী চেকপোস্ট সাতটি থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করার নির্দেশও দেন তিনি।
পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, এই নির্দেশ বাস্তবায়নে যাবতীয় দায়ভার তিনিই বহন করবেন। তাঁর ভাষায়, “বাইরে থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এসে নগরবাসীকে গুলি করে চলে যাবে—এটা হতে দেওয়া যায় না। তাই সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র এসএমজি দিয়ে ব্রাশফায়ার করার নির্দেশ দিয়েছি। তবে এই নির্দেশ সাধারণ নিরস্ত্র নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রলীগ একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ। এই নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো অরাজকতা করতে রাস্তায় নামলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে, গুলি নয়। গ্রেপ্তারের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হবে এবং আদালতে পাঠানো হবে।”
সাম্প্রতিক সময় চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগের সময় গুলিতে পাঁচজন আহত হন; নিহত হন সরোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি, যিনি পুলিশের তথ্যানুসারে একাধিক মামলার আসামি ছিলেন।
এছাড়া, শুক্রবার হালিশহরে মো. আকবর নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়, যার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা ছিল। এর আগে ২৭ অক্টোবর বাকলিয়ায় ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের কর্মী সাজ্জাদকে গুলি করে হত্যা করা হয়, এবং ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন।
এই ধারাবাহিক সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতেই নগরজুড়ে টহল জোরদার এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘দেখামাত্র ব্রাশফায়ার’ নীতি কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।







