যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ধ্বংসাবশেষকে ‘যুদ্ধ জাদুঘর’ হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান সরকার। গত মার্চে শুরু হওয়া যুদ্ধের ক্ষত এবং বেসামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার আন্তর্জাতিক দলিল হিসেবে এই স্থাপনাটিকে সংরক্ষণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হামলার ভয়াবহতার সাক্ষী হয়ে থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান জাফরুল্লাহ কালানতারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁরা এই ধ্বংসস্তূপকে কেবল পাথর আর সিমেন্টের স্তূপ হিসেবে দেখছেন না। এটি তাঁদের ওপর চালানো ‘বৈজ্ঞানিক নিপীড়নের’ এক অকাট্য দলিল হয়ে ইতিহাসের পাতায় টিকে থাকবে। গত মার্চ মাসের ওই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইরানি সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকে দেশটির অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। তবে হামলা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ধ্বংস হওয়া ল্যাবরেটরিগুলোর জন্য আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে ইরানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের এই সিদ্ধান্তের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন একটি আন্তর্জাতিক স্মারক হিসেবে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







