বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় দেশের জ্বালানি খাতকে আমদানি নির্ভর করে তোলা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে উচ্চ মূল্যে গ্যাস আমদানি করা হয়েছে। তবে বিএনপি সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
শনিবার কুমিল্লার মুরাদনগরে শ্রিকাইল গ্যাস ফিল্ডের ৫ নম্বর কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল ইসলাম।
বাপেক্স কর্মকর্তারা জানান, শ্রিকাইলের এ কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এখানে আনুমানিক তিন হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ গ্যাসের মজুদ রয়েছে। তাদের মতে, আমদানি মূল্যের হিসাবে আগামী ১০ বছরে এই গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে।
গ্যাসকূপ এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশীয় গ্যাস উত্তোলন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করেই দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা হবে এবং সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি জানান, ২৩টি অনুসন্ধান কূপ খননের মধ্যে আটটিতে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
জ্বালানি বিভাগের সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হবে। কারণ আমদানি করা গ্যাসের দাম দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। তাই দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো এবং বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।







