নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণও বৃদ্ধি করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, ইতিমধ্যে ৩৭ হাজারের বেশি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে এবং জুন মাসের মধ্যে মোট ৮৬ হাজার পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ উপকারভোগীর জন্য ১৩ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। পর্যায়ক্রমে ২০২৯-৩০ অর্থবছর নাগাদ উপকারভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৬১ লাখে উন্নীত করা হবে, যার জন্য ৫৩ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন পড়বে। পাঁচ বছরের মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হবে এবং বাকি অর্থ জরিপ ও কার্ড তৈরির কাজে ব্যয় হবে।
প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওদের প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে তাঁরা মনে করেন, এই বিশাল ব্যয়ের অর্থ সংস্থানের জন্য রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অপচয় রোধ করা জরুরি। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি সরকারের একটি মানবিক ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ এবং অর্থায়নের কোনো সংকট হবে না।







