যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট এক বিস্ফোরক দাবিতে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন ছিল যে তেহরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন যে সিআইএসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো যুদ্ধের আগেই সতর্ক করেছিল। তাদের পূর্বাভাস ছিল, হামলা হলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানতে পারে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে।
জো কেন্টের দাবি অনুযায়ী, গোয়েন্দাদের পেশাদার মূল্যায়ন থাকা সত্ত্বেও একটি বিদেশি রাষ্ট্র তথা ইসরায়েলের রাজনৈতিক এজেন্ডাই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী লবির চাপেই যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কেন্ট আরও উল্লেখ করেন, গোয়েন্দারা আগেই জানিয়েছিল যে ইরানি নেতৃত্বের ওপর হামলা চালালে দেশটির শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং কট্টরপন্থীরা উৎসাহিত হবে, কিন্তু সেই সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউস জো কেন্টের এই বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে একে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল এক বিবৃতিতে জানান, ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান সন্ত্রাসবাদ পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র এবং আমেরিকানদের ওপর হামলার আশঙ্কা থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সরকারের দাবি, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ছিল শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও আগে দাবি করেছিলেন যে ইসরায়েল তাকে যুদ্ধে যেতে কোনো চাপ দেয়নি। তাঁর মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে জো কেন্টের এই নতুন মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পেছনে গোয়েন্দা তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বেশি কার্যকর ছিল।







