তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সব নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নবাগত দল ‘তমিজাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)। দীর্ঘ ৫ দিনের টানাপোড়েন শেষে সরকার গঠনের দাবি নিয়ে আজ শনিবার চেন্নাইয়ের লোকভবনে রাজ্যপাল আর. ভি. আরলেকারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিজয়। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল রবিবার (১০ মে) দুপুরে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।
নির্বাচনে ১০৭ থেকে ১২০টি আসনের এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে বিজয়কে নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিতে হয়েছে। ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে গত চার দিনে রাজ্যপালের সঙ্গে এটি ছিল তাঁর চতুর্থবারের মতো সাক্ষাৎ। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাজ্যপাল আরলেকার তাঁর কেরালা যাওয়ার পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইটটিও বাতিল করেছেন। বিজয়ের এই উত্থান তামিলনাড়ুর চিরাচরিত রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে বিজয়ের ক্ষমতা গ্রহণের প্রাক্কালে রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী দল এআইএডিএমকে-র মধ্যে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দলটির প্রবীণ নেতা সি ভি শানমুগাম দল ত্যাগের পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এআইএডিএমকে-র অন্তত ৩০ জন বিধায়ক শানমুগামকে সমর্থন দিচ্ছেন এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি বিজয়ের দল টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারেও আগ্রহী।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আজ শনিবার চেন্নাইয়ে শানমুগামের কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুদুচেরির একটি রিসোর্ট থেকে ফিরে আসা বিধায়কদের পাশাপাশি এসপি ভেলুমণি ও এমআর বিজয়ভাস্করের মতো প্রবীণ নেতারা অংশ নেন। এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ এআইএডিএমকে-কে বড় সংকটের মুখে ফেলেছে, যা শেষ পর্যন্ত থালাপতি বিজয়ের নতুন সরকারকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।







