ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির কর্তৃক ইডেন কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ‘গুপ্ত শিবিরের ইন্ধন’ হিসেবে অভিহিত করার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে “ইবলিসও লজ্জা পাবে এই সাধারণ শিক্ষার্থী বেশধারী গুপ্ত শিবিরকে দেখলে” – তার এই মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ জনতা ও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলনকেই বিএনপি ও ছাত্রদল ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে দমন বা প্রশ্নবিদ্ধ করার পুরনো কৌশলে হাঁটছে।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ক্ষুব্ধ নাগরিকরা মন্তব্য করছেন যে, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। অনেকের মতে, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা যখনই কোনো বৈষম্য বা অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে, তখনই ছাত্রদল সেটিকে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বা ‘শিবির’ তকমা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের ভাষ্য, এই ধরণের ঢালাও মন্তব্য শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারকে অপমান করার শামিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্রদলের এমন অবস্থান সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দলটির দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইডেনে ছাত্রদলের নেত্রীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুরো শিক্ষার্থী সমাজকে ‘ধোঁকাবাজ’ বা ‘গুপ্ত বাহিনী’ হিসেবে চিহ্নিত করাকে সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতেই কি ছাত্রদল এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে?
এদিকে, নাছির উদ্দিন নাছিরের দেওয়া ফেসবুক পোস্টের নিচে অনেকেই পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন—যদি প্রতিটি আন্দোলনই শিবিরের হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান কোথায়? ছাত্রদলের এই ‘ট্যাগিং পলিটিক্স’ বা তকমা দেওয়ার রাজনীতিকে ফ্যাসিবাদী আচরণের সঙ্গে তুলনা করছেন কেউ কেউ। জনরোষের মুখে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে পরবর্তী কোনো ব্যাখ্যা আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।







