পাবনার বেড়া উপজেলায় চাঁদার দাবিকৃত টাকা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বর্তমানে পাবনা সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেড়া পৌরসভার সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মিজানুর রহমানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে, সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন সরদারের নেতৃত্বে কয়েকজন মোটরসাইকেলযোগে এসে তাকে অপহরণের মতো করে নিয়ে যায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মার্কেট নির্মাণকাজ করছেন। এ নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা তাকে তুলে নিয়ে মারধর করে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, একটি নির্জন স্থানে নিয়ে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে মিজানুর রহমানকে গুরুতর আহত করা হয়। মারধরের ফলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের পাশাপাশি হাত ও পা ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া তার হাতে থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের আংটি এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্বজনরা।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই তাদের পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কাছে আলাদাভাবে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানানো হলে অভিযুক্তরা মুচলেকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি আবারও চাঁদা দাবি শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, চাঁদা না দেওয়ায় তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শ্রমিক দল নেতা রিপন সরদার। তিনি বলেন, “তারা আগে আমাকে মারধর করেছে, তাই আমিও মারধর করেছি। আমার লোকজন দুই-একটা বাড়ি দিয়েছে, এটা সত্য। কিন্তু চাঁদা দাবি কিংবা স্বর্ণের আংটি নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এ ধরনের রাজনীতি করি না।”
এদিকে ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার বলেন, “ভুক্তভোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চাঁদাবাজি ও হামলার এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।







