জাতীয় সংসদের হুইপের কণ্ঠস্বর নকল (ভয়েস ক্লোন) ও বিদেশি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ২৫তম বিসিএস-এর একজন পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে জেলা পদায়ন ও বদলির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার চেষ্টার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। আর্থিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে এই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধ স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম বাবু ও তাঁর এক সহযোগী।
ঘটনার বিবরণী ও অপরাধীদের দেওয়া লিখিত মুচলেকা থেকে জানা যায়, খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন বানরগাতী এলাকার বাসিন্দা ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম বাবু (৩৮) এবং খুলনা জেলার কয়রা থানার লালুয়া এলাকার মো. হাবিবুর রহমান (৩২) পরস্পর যোগসাজশে এই জালিয়াতির ফাঁদ পাতেন।
তারা দুজনে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ২৫তম বিসিএস ব্যাচের একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে টার্গেট করেন। এরপর জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ওই কর্মকর্তাকে কাঙ্ক্ষিত জেলায় পদায়নের প্রলোভন দেখান। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে তারা মাননীয় হুইপ মহোদয়ের কণ্ঠ নকল করে ওই কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় ফোনে কথা বলেন এবং বদলির তদবিরের নামে প্রতারণার চেষ্টা চালান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অপরাধ স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা দেন এই চক্রের দুই সদস্য।
মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেন, ‘আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ২৫তম বিসিএস-এর একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে জেলা পদায়নের প্রলোভন দেখিয়ে মাননীয় হুইপ মহোদয়ের কণ্ঠ নকল করে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলি এবং উক্ত কর্মকর্তাকে প্রলোভন দেখাই।’ তবে প্রকৃতপক্ষে উক্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে তারা কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন।
নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তারা উভয়েই লিখিতভাবে চরম অনুতপ্ত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এহেন রাষ্ট্রবিরোধী ও অপরাধমূলক জালিয়াতি কার্যক্রম করবেন না মর্মে অঙ্গীকার প্রদান করেছেন। এই মুচলেকা প্রদানের সময় সাক্ষী হিসেবে মো. আব্দুল মতিন চৌধুরী এবং সুমন নামের স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের এমন নজিরবিহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার ঘটনায় খুলনার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।







