বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ঘোষিত ‘ভুখা মিছিল’ কর্মসূচি রবিবার বিকেলে আটকে দেয় পুলিশ। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মিছিলটি হাইকোর্টের গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশ বেরিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা বন্ধ করে দেয়। এর আগে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিল চলাকালে শিক্ষকরা বিভিন্ন প্রতিবাদধর্মী স্লোগান দেন—
“যৌক্তিক আন্দোলন, মেনে নাও নিতে হবে”,
“২০ শতাংশ বাড়িভাড়া দিতে হবে”,
“ভাতা মোদের দাবি নয়, অধিকার অধিকার”,
“বৈষম্যের ঠাঁই নাই”,
“আবু সাঈদ”— এমন নানা স্লোগানে তারা মুখর ছিলেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “আমরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলছি, অথচ নিজেদের জীবনে নেই স্বীকৃতি, নেই নিরাপত্তা। খালি থালা হাতে নামা আমাদের বঞ্চনা ও অসম্মানের প্রতীক।”
শনিবার রাতে তিনি এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বলেন, “বছরের পর বছর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছি, বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই খালি থালা হাতে রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। এটি প্রতীকী প্রতিবাদ হলেও এর পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার গল্প।”
এর আগে ১২ অক্টোবর প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের ধস্তাধস্তি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরদিন (১৩ অক্টোবর) থেকে সারাদেশে পাঠদান বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।
এদিকে সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা ৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি—২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা, ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।







