পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ হালনাগাদ করে নতুন শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ জারি করেছে। নতুন বিধিমালায় কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো পাবলিক প্লেস বা জনপরিসরে লাউডস্পিকার, মাইক, অ্যামপ্লিফায়ার ও সুরযন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, শব্দদূষণের অন্যতম বড় উৎস হর্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্বের বিধিতে আমদানি, উৎপাদন, মজুদ ও বিক্রির ওপর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় তদারকিতে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল। হালনাগাদ বিধিমালায় এসব ক্ষেত্রে স্পষ্ট শাস্তির বিধান যোগ করা হয়েছে, যা অনিয়ন্ত্রিত হর্ন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে সহায়ক হবে।
পূর্বের বিধিমালার বিভিন্ন দুর্বলতা ও অস্পষ্টতা দূর করে নতুন বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত বিবেচনা এবং আন্তর্জাতিক বেস্ট প্র্যাকটিস পর্যালোচনা করে হালনাগাদ বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বনভোজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে শব্দসীমা ৯০ ডেসিবল নির্ধারণ এবং অনুষ্ঠান রাত ৯টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। নীরব এলাকায় পটকা, আতশবাজি, হর্ন বা অনুরূপ শব্দসৃষ্টিকারী পণ্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাত্রিকালে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা, শিল্পকারখানা ও জেনারেটরের শব্দ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধান এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮–এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের হাতে现场 জরিমানা করার ক্ষমতা যোগ করা হয়েছে, যা আগে কেবল ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে ট্রাফিক সার্জেন্টের নিচে নয়—এমন পুলিশ কর্মকর্তারা শব্দদূষণ সংক্রান্ত অপরাধে জরিমানা দিতে পারবেন।
সরকার জানায়, অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক, কর্মশালা, মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত গ্রহণ ও জনমতের জন্য খসড়া উন্মুক্ত রেখে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে। নতুন বিধিমালা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।







