সিলেট-৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বৃহত্তর সিলেটের প্রখ্যাত আলেম, শিক্ষক ও সমাজসেবক মুফতি মাওলানা আবুল হাসান। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের মিম্বর থেকে দ্বীনি দাওয়াত, শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসংস্কারের কাজে নিয়োজিত এই আলেমের জাতীয় সংসদে পদার্পণ স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি জামায়াতে ইসলামি জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিশের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় অঙ্গন থেকে সরাসরি রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নকারী সর্বোচ্চ ফোরামে তার অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজয় অর্জনের পর তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং সিলেট-৫ আসনের সর্বস্তরের জনগণ, দলীয় নেতাকর্মী, জোটসঙ্গী, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, “ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তা রক্ষা করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। অল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়েও যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি, তা চিরস্মরণীয়।” আগামী পাঁচ বছর সিলেট-৫ আসনের সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত রাখার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মামুনুর রশীদ মামুন। তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
১৯৬৬ সালের ১৫ অক্টোবর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের মাজরগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশবেই দ্বীনি শিক্ষায় হাতেখড়ি নেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে হিফজুল কোরআন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাওরায়ে হাদিস ও ফতওয়া বিভাগে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন। চট্টগ্রামের জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া থেকে ফতওয়া ও ইসলামী গবেষণায় বিশেষ প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মাদরাসায় মুফতি, মুহাদ্দিস ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীয় মুকাম মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শিক্ষা, দাওয়াত, তাসাউফ ও সমাজসেবায় সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।







