বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিলেটের গোলাপগঞ্জে ছাত্র-জনতার ওপর গুলির আদেশ প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় গোপন ও তথ্য সরবরাহ না করায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলমকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের আদেশ অমান্য ও বিচারকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের আমলি আদালত নম্বর-২ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই আদেশ দেন, যা গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জানাজানি হয়। আদেশে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৯ আগস্ট মামলাটি দায়ের হলেও জেলা প্রশাসকের অসহযোগিতার কারণে তদন্ত কাজ মারাত্মকভাবে বিলম্বিত হচ্ছে।
আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে বারবার আবেদন করলেও জেলা প্রশাসক তা সরবরাহ করেননি। আদালতের আদেশ পাওয়ার দীর্ঘ সময় পরও তথ্য না দেওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এটি সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। এর ফলে বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
শোকজ নোটিশে জেলা প্রশাসককে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন আদালত।
এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম জানান, তিনি আদালতের শোকজ নোটিশের কথা শুনেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতের কাছে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা ও জবাব দাখিল করা হবে।







