আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটগত নয়, বরং নিজেদের শক্তিতেই এককভাবে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে ইতিমধ্যেই ১২ জন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে দলটি। এবারের নির্বাচনে জামায়াত অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ ও ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের মনোনয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জামায়াত ইতিমধ্যেই চার সিটির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। নারায়ণগঞ্জে দলের মহানগরের আমির ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার এবং গাজীপুরে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটিতে সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী এবং রংপুরে মহানগর আমির এ টি এম আজম খান নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

ঢাকার দুই সিটি নিয়ে জামায়াতের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ঢাকা উত্তরে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি ও শিবির নেতা আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় আছেন। যদিও ঢাকা দক্ষিণে জোটের শরিক এনসিপির পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রস্তাব করা হয়েছিল, তবে জামায়াত নেতারা নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার পক্ষেই অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
অতীতে বড় দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এবার এককভাবে লড়াই করার কৌশল নিয়েছে জামায়াত। দলটির নেতারা মনে করছেন, বর্তমানে তাঁদের জনসমর্থন অনেক বেড়েছে এবং তাঁরা এখন প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের বিবেচনা করছেন। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রুকনদের পাশাপাশি সাধারণ কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার নীতি গ্রহণ করেছে দলটি।
সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্যও প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। জামায়াত নেতারা মনে করছেন, বর্তমানে প্রশাসকদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালনা অসাংবিধানিক। তাই তাঁরা দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা সামনে রেখে জামায়াত মাঠ গোছাতে শুরু করেছে।







