কয়েক মাসের তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে। একই সঙ্গে পুরো সরকারও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) আকস্মিক এক অধ্যাদেশ জারি করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ওমর সাম্বা বা এই ঘোষণা দেন। পশ্চিম আফ্রিকার ঋণসংকটে জর্জরিত দেশটিতে এই পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে।
বরখাস্তের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন ওসমান সোনকো। সম্প্রতি তিনি অভিযোগ করেন, ‘স্বৈরাচারী’ পশ্চিমা দেশগুলো অন্যান্য দেশের ওপর সমকামিতাকে ‘চাপিয়ে দেওয়ার’ চেষ্টা করছে। এদিকে সেনেগালে সমকামিতাসংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি আরও কঠোর করে সম্প্রতি একটি নতুন আইন পাস করা হয়েছে। সোনকো জানান, এই আইনটি পাস হওয়ার পর তিনি বিদেশ থেকে, বিশেষ করে ফ্রান্সের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা শুনেছেন। পশ্চিমাদের উদ্দেশ্যে তিনি সাফ বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তাদের কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
প্রেসিডেন্টের আদেশের পর পুরো মন্ত্রিসভার দায়িত্ব শেষ হলেও নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বরখাস্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সোনকো লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আজ রাতে আমি কুয়ের গরগুইয়ে (নিজের এলাকা) শান্তিতে ঘুমাব।’ মধ্যরাতের পর সোনকো তাঁর বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে তাঁর শত শত সমর্থক জড়ো হন।
প্রেসিডেন্ট ফায়ে মূলত ওসমান সোনকোর রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর ভর করেই ক্ষমতায় এসেছিলেন। গত ২০২৪ সালের নির্বাচনে সোনকোর নির্বাচনে দাঁড়ানোর আইনি বাধা থাকায় তিনি ফায়েকে সমর্থন করেছিলেন এবং তারা প্রথম দফার ভোটেই জয় অর্জন করেন। একসময় সোনকো ফায়ের রাজনৈতিক গুরু ও ‘পাস্টেফ পার্টি’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা হলেও আইএমএফ-এর ঋণ, অর্থনৈতিক নীতি ও দলীয় আধিপত্য নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তাঁদের সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নেয়। অবশেষে সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে প্রেসিডেন্ট ফায়ে তাঁর প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন।







