ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের মেধাবী ছাত্র রমিজ উদ্দিন জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হন। গত ৪ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনের নিচে এক বিশাল বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আন্দোলন চলাকালে চারপাশের চরম উত্তেজনার মধ্যে ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বারবার ফোন দিচ্ছিলেন তাঁর মা। শেষবার মায়ের ফোনটি রিসিভ করে রমিজ উদ্দিন শুধু বলতে পেরেছিলেন, “মা, ফায়ারিং হচ্ছে… পরে কথা বলি।” মায়ের সাথে সেটিই ছিল তাঁর জীবনের শেষ কথোপকথন।
এর কিছুক্ষণ পরই আন্দোলনকারীদের ওপর যুবলীগের সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া একটি বুলেট সরাসরি রমিজ উদ্দিনের চোখ দিয়ে ঢুকে মাথার ভেতরে আটকে যায়। রক্তক্ষরণ শুরু হলে সহযোদ্ধা ও বন্ধুরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত বন্ধু প্রান্তের হাতের ওপর ছটফট করতে করতে শাহাদাত বরণ করেন এই তরুণ শিক্ষার্থী। পরিবারের বড় সন্তানকে হারিয়ে রমিজের মা-বাবা ও স্বজনরা এখন গভীর শোকে পাথর হয়ে গেছেন।
হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত স্বভাবের রমিজ উদ্দিন নিজের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনেছিলেন প্রযুক্তি দুনিয়ায়। কিন্তু দেশের এক ঐতিহাসিক ক্রান্তিলগ্নে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি আজ চিরবিদায় নিয়েছেন। গত ২৪ মে ছিল এই বীর শহীদের জন্মদিন, যা মনে করে তাঁর পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে আবারও এক আবেগঘন এবং শোকার্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।







