মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী অজুর পদ্ধতি
অজু ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত পরিপাটি, পরিমিত ও সুন্নাহসম্মতভাবে অজু করতেন। হাদিসে তাঁর অজুর বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
অজুর সময় পানির ব্যবহার
রাসুল (সা.) সাধারণত প্রতিটি ফরজ নামাজের আগে নতুন করে অজু করতেন, তবে কখনো এক অজুতে একাধিক নামাজও আদায় করেছেন।
তিনি খুব অল্প পানি ব্যবহার করতেন—প্রায় ৬২৫ মিলিলিটার থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লিটার।
অজুতে পানির অপচয় করতে তিনি কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
অজুর অঙ্গ ধোয়ার নিয়ম
অঙ্গগুলো কখনো একবার, কখনো দুবার, তবে অধিকাংশ সময় তিনবার করে ধুতেন।
তিনবারের বেশি ধোয়াকে তিনি সীমালঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
কুলি ও নাকে পানি দেওয়া
ডান হাতে পানি নিয়ে কুলি ও নাকে পানি দিতেন।
বাঁ হাতে নাক পরিষ্কার করতেন।
কখনো কুলি ও নাকে পানি আলাদাভাবেও দিতেন।
মাথা ও কান মাসাহ
ভেজা দুই হাত দিয়ে মাথার সামনের অংশ থেকে পেছনে নিয়ে আবার সামনে ফিরিয়ে মাসাহ করতেন।
মাথায় পাগড়ি থাকলে সামনের অংশে মাসাহ করে বাকি অংশ পাগড়ির ওপর মাসাহ করতেন।
দুই কানের ভেতর ও বাইরের অংশও মাসাহ করতেন।
দাড়ি ও পায়ের আঙুল খিলাল
ঘন দাড়িতে আঙুল প্রবেশ করিয়ে ভালোভাবে খিলাল করতেন।
পায়ের আঙুলগুলোর মাঝখানেও কনিষ্ঠা আঙুল দিয়ে খিলাল করতেন।
অজুর সীমানা
হাত ও পা ধোয়ার সময় নির্ধারিত সীমার চেয়ে কিছুটা বাড়িয়ে ধুতেন।
তিনি বলেছেন, কিয়ামতের দিন অজুর চিহ্নে তাঁর উম্মত উজ্জ্বল থাকবে।
অজুর দোয়া
অজুর শুরুতে:
বিসমিল্লাহ।
অজুর সময় পড়া দোয়া:
আল্লাহুম্মাগফির লি জামবি, ওয়া ওয়াসসি লি ফি দারি, ওয়া বারিক লি ফি রিযকি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার ঘরকে প্রশস্ত করুন এবং আমার রিজিকে বরকত দান করুন।
অজু শেষে:
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।
এরপর পড়া সুন্নত:
আল্লাহুম্মাজ আলনি মিনাত-তাওয়াবিনা ওয়াজ আলনি মিনাল-মুতাত্তাহহিরিন।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
এছাড়াও পড়া যায়:
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, সব প্রশংসা আপনারই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনার দিকেই ফিরে আসি।
অজু শুধু শারীরিক পরিচ্ছন্নতা নয়; এটি আত্মিক পবিত্রতা অর্জনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সুন্নাহ অনুযায়ী অজু করলে ইবাদতের পরিপূর্ণতা ও সওয়াব বৃদ্ধি পায়।







