পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘নুসুক-ই মতিহার’ বা ‘মতিহারের কুরবানি’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী এক উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ঈদের দিন মাগরিবের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় এই আনন্দঘন ভোজের আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের ছুটির সময়েও নানা কারণে যেসব শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে যেতে পারেননি, তাঁদের মাঝে ঈদের খুশি ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদকের বরাতে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের জন্য এই আয়োজনে এ পর্যন্ত ৪টি গরু এবং ১টি খাসি কোরবানি করার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়েছে। উৎসবের আমেজে অনেক দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থী যারা হলে কিংবা ছাত্রাবাসে থেকে গেছেন, তাঁদের জন্য একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করাই এই বিশেষ ‘ঈদের ডিনার’ বা নৈশভোজের মূল উদ্দেশ্য।
আয়োজনের বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ক্যাম্পাসে অবস্থানরত এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বহু বছর ধরেই অত্যন্ত সফলতার সাথে কোরবানির বড় বড় আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় ঈদের দিন রাতে এক জমকালো ডিনারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘নুসুক-ই মতিহার’।
তিনি আরও জানান, এই বিশাল আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে ৪টি গরু ও ১টি খাসি কেনা সম্পন্ন হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আরও ২টি গরু কেনার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও আশপাশের মেসে অবস্থানরত সকল সাধারণ রাবি শিক্ষার্থী কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ঈদের দিনের এই নৈশভোজে অংশ নিতে পারবেন।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এই উৎসবের আলো ছড়াবে ক্যাম্পাস-সংলগ্ন অবহেলিত মানুষের মাঝেও। ছাত্রশিবির সভাপতি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নআয়ের কর্মচারী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার যেসব দরিদ্র শিক্ষার্থীর পরিবার এবার কোরবানি দিতে পারেনি, তাদের খুঁজে বের করে ঘরে ঘরে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হবে, যা সমাজে ঈদের প্রকৃত আনন্দ ও ত্যাগের মহিমাকে ফুটিয়ে তুলবে।







