কিংবদন্তি অনুসন্ধানী সাংবাদিক সেমুর হার্শের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের এক গোপন বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে আলাপ তুলেছেন। ক্রমবর্ধমান চাপে থাকা ট্রাম্পের এমন অস্পষ্ট কিন্তু ভয়ংকর ভাবনা ফাঁসের পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষমতা গ্রহণের ৪ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্পের বর্তমান জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস) এবং সম্ভবত সিনেটের নিয়ন্ত্রণও ফিরে পেতে পারে। আর এমনটা হলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আবারও অভিশংসনের ডাক ওঠার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে মার্কিন চাপ সত্ত্বেও ইরান এখনও তাদের ভূগর্ভস্থ কারখানাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে চলেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই আটকাতে পারছে না। ট্রাম্পের শুরু করা এই যুদ্ধের কোনো শেষও এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
ইরানের পক্ষ থেকে অবরোধ প্রত্যাহার, আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া, হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্ব এবং লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো কিছু দাবি জানানো হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য এগুলোকে ন্যূনতম শর্ত হিসেবে দেখা হলেও, ট্রাম্প এই দাবিগুলোকে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। ইসরায়েল লেবাননে ক্রমাগত বোমা হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির পথ পুরোপুরি ভেস্তে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প নিজেকে দক্ষ কৌশলবিদদের বদলে চাটুকার ও অনুগতদের দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। লিন্ডসে গ্রাহামের মতো যুদ্ধবাজ এবং মার্ক লেভিনের মতো কট্টর জায়নবাদীদের কথাই কেবল তাঁর কানে পৌঁছাচ্ছে, ফলে প্রকৃত সত্যটা তাঁর জানা হচ্ছে না।
সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জেতা সম্ভব নয়, এমন এক যুদ্ধে ট্রাম্প এখন কোণঠাসা হয়ে আটকা পড়েছেন। ফলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হিসেবে তিনি চরম ধ্বংসযজ্ঞ তথা পারমাণবিক হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের ইতি টানার মতো মরিয়া ভাবনার দিকে ঝুঁকছেন। তবে ট্রাম্প যদি সত্যিই এই পথে হাঁটেন, তবে বৈশ্বিক সমীকরণ চিরতরে বদলে যাবে—যা আমেরিকার পক্ষে যাবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।







