মারামারি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ছিনতাইয়ের একটি মামলায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২২ জুন) পটুয়াখালীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন করিমের আদালতে জিআর-৮৯/২৬ নম্বর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ফাহাদ। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে বাউফল পৌর শহরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাতের আঁধারে হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর ফজলুল হক মৃধা নামের এক ব্যবসায়ী বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলায় ফাহাদসহ মোট ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, পূর্ব বিরোধের জেরে আসামিরা তার ভাই ও সহযোগীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও মারধর করে এবং ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হামলায় গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ফাহাদ আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ মামলার সার্বিক ও বিস্তারিত তদন্ত শেষে দ্রুতই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
এদিকে ছেলের বিরুদ্ধে আনা এই মামলাটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের বাবা ও বাউফল পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শাহজাহান হাওলাদার।
তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় জামায়াতের নেতারা বিশৃঙ্খলা ও তাণ্ডব চালায়। এর প্রতিবাদে ওই দিন রাতে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সেই মিছিল দেখেই আচমকা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় বাজারের ব্যবসায়ী ও জামায়াত সমর্থক আল-আমিন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নিজেদের দোকান নিজেরা ভেঙে ফাহাদসহ আমাদের ছেলেদের নামে এই সাজানো মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।”







