জামালপুর শহরে কর্মরত এক বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুইজন ওই ভবনের গৃহকর্মীও রয়েছেন। এই চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধারের জন্য চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে শুক্রবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতের বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী গত সাত মাস ধরে জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। গত ৩০ জুন বিকেলে বিচারক সাকিল তাঁর স্ত্রীকে জামথল ঘাটে পৌঁছে দিতে যান। পরে রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরে মূল দরজা খুলতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা শয়নকক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, একটি হীরার আংটিসহ মোট ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।
এই চুরির ঘটনার পরদিন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.কে.এম. ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে একই ভবনের অপর একটি বাসার গৃহকর্মী নিলুফাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এই চক্রের সাথে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের নিলুফা (৩২), সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের হাওয়া বেগম (৩০), শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন (৫০), গোলাপবাগ এলাকার সুমন মিয়া (৩৯) এবং কলেজ রোড এলাকার নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯)। এদের মধ্যে সুমন মিয়া জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক এবং নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জামালপুর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা চুরির ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির মূল পরিকল্পনাকারী ও পলাতক বাকি সদস্যদের শনাক্ত করাসহ চোরাই মালামাল উদ্ধারের জন্য চারজনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে গ্রেপ্তারকৃত গৃহকর্মী নিলুফা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই ব্যক্তি অতীতে সংগঠনের পদে থাকলেও বর্তমানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো দায়িত্বে নেই। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সুমন মিয়া ও নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব সংগঠনের সর্বশেষ কমিটিতেও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।







