গত বছর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। নবগঠিত এই সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান মীর শাহে আলম। তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় বগুড়ার শিবগঞ্জে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ এবং নিজের নামে বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয়সহ একাধিক বিষয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন তিনি।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর গত তিন মাসে মীর শাহে আলম তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়ার শিবগঞ্জে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ প্রদানে অনিয়ম করেছেন। এর পাশাপাশি অল্প সময়ের ব্যবধানে নিজের নামে ২৪২ শতক মূল্যবান জমি ক্রয় করেছেন, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক প্রশ্ন ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। এছাড়াও এলাকার তিনটি ইউনিয়নের নামকরণের ক্ষেত্রে তিনি সরাসরি স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সম্প্রতি বগুড়ার শিবগঞ্জে সরেজমিনে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পরিচালনা করেছে বেসরকারি গণমাধ্যম ‘যমুনা টেলিভিশন’। তাদের অনুসন্ধানে স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ এবং প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রে নানা অসঙ্গতির চিত্র উঠে এসেছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। জমি ক্রয়ের বিষয়ে তিনি দাবি করেছেন, এই জমিগুলো কোনো অনৈতিক উপায়ে নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কেনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আরও দাবি করেন, নতুন সরকার গঠনের পর একটি মহল রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। তাঁর বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির যে ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই এবং এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।







