তাহাজ্জুদ হলো রাতের শেষ ভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত, যা বান্দাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। গভীর রাতে যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমে নিমগ্ন থাকে, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নামাজে দাঁড়ানো ঈমানদারের জন্য বিশেষ মর্যাদার কাজ।
হাদিসে এসেছে, ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ নামাজ হলো রাতের নামাজ। (সহিহ মুসলিম: ১১৬৩) এছাড়া কিয়ামুল লাইল বা রাতের নামাজকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, গুনাহ মাফ এবং অশ্লীলতা ও পাপ থেকে দূরে থাকার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (সহিহ ইবনে খুজাইমা: ১১৩৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও জানিয়েছেন, জান্নাতে এমন প্রাসাদ থাকবে যার ভেতর থেকে বাইরের সবকিছু এবং বাইরে থেকে ভেতরের সবকিছু দেখা যাবে। এসব প্রাসাদ তাদের জন্য, যারা মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করে, ক্ষুধার্তকে আহার করায়, নিয়মিত রোজা রাখে এবং মানুষ ঘুমিয়ে থাকাকালে রাতে নামাজ আদায় করে। (জামে তিরমিজি: ২৫২৭)
হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে, প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ তাআলা নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে বান্দাদের আহ্বান জানান—কে আমার কাছে দোয়া করবে, আমি তার দোয়া কবুল করব; কে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে দান করব; আর কে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। (সহিহ বুখারি: ৬৩২১)
লেখক উল্লেখ করেন, আজকের যুগে মানুষ নানা কারণে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য রাতের সবচেয়ে মূল্যবান সময় হওয়া উচিত আল্লাহর ইবাদত, দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় কাটানো। তাহাজ্জুদ কেবল একটি নফল নামাজ নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং হৃদয়ের প্রশান্তি অর্জনের এক অনন্য মাধ্যম।
লেখক: মুফতি ফয়েজ হাবীব, মুদাররিস, জামিয়া রিয়াজুল উলুম, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।







