ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক দুই মাদক কারবারিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিবের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া এলাকার লিবাটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সামনে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওয়াপাড়া এলাকার সরোয়ার কাজীর ছেলে সোহাগ কাজী দুই পিস ইয়াবা বিক্রি করার সময় একই গ্রামের সাইফারের ছেলে পারভেজের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন। স্থানীয় ২০ থেকে ২২ জন যুবক মাদকের এই লেনদেন দেখে দুজনকে ইয়াবাসহ আটক করেন।
খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিব ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় যুবকদের অভিযোগ, মাদক কারবারিদের থানায় সোপর্দ করার কথা বলে তিনি নিজের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। তবে শুক্রবার সকালে যুবকরা থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আটক ব্যক্তিদের পুলিশে দেওয়া হয়নি; বরং বিএনপি নেতা তাদের ছেড়ে দিয়েছেন।
মাদক কারবারিদের এভাবে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় যুবসমাজ ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ যুবকরা শুক্রবার গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি জানান। পরে জুমার নামাজের পর দারোগার বাড়ি জামে মসজিদে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। যুবকদের দাবি, মাদক নির্মূলের এই প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করায় হাসিবুর হাসানের কাছে এর স্পষ্ট জবাবদিহি চাওয়া হবে।
নওয়াপাড়া গ্রামের যুবক আমীর হামজা ও শাকিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদক কারবারিদের ইয়াবাসহ ধরেছিলাম। হাসিব ভাই থানায় দেওয়ার কথা বলে তাদের নিয়ে যান, কিন্তু পরে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেন। এভাবে চললে এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং মাদকের বিস্তার আরও বাড়বে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিব বলেন, “আমি ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি কয়েকজন ছেলে দুইজনকে মারধর করছে। আমি তাৎক্ষণিক মারধর বন্ধ করি এবং থানার ওসি সাহেবকে ফোন করি। ওসি সাহেব আমাকে জানান, যেহেতু তাদের মারধর করা হয়েছে, আগে হাসপাতালে ভর্তি করতে অথবা এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলতে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “আমি তাদের গাড়িতে করে থানার সামনে নিয়ে গিয়ে আবার ওসিকে ফোন করি। তখনও একই কথা বলা হলে ওই দুইজন আমার কাছে ক্ষমা চায় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে বিএনপির অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তাইজুল ইসলাম জানান, বিএনপি নেতা হাসিবুর হাসান তাকে ফোন করেছিলেন। মারধরের কথা শুনে তিনি আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন।







