নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ (এন.এস. কলেজ) গেটের সামনে জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্মরণে আঁকা গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এস এম জুবায়েরকে নিজ হাতে এই গ্রাফিতি মুছে ফেলতে দেখা যায়।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শহীদ হওয়া শরীফ ওসমান হাদির স্মৃতি ও ত্যাগকে ধরে রাখতে শিক্ষার্থীরা যে দেয়ালচিত্র বা গ্রাফিতি এঁকেছিলেন, তা ছাত্রদল নেতা জুবায়েরের উপস্থিতিতে ও সরাসরি নির্দেশে চুনকাম করে মুছে দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয় এবং নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, “তারা কি শহীদ ওসমান হাদির ছায়াকেও ভয় পায়? কেন তাঁর দেশের জন্য দেওয়া রক্তের স্মৃতিচিহ্ন এভাবে মুছে ফেলতে চায়?” সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ঘটনাকে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা এবং জুলাই সনদের স্পিরিটের পরিপন্থী বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও এলাকায় ছাত্রদলের একাংশের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের এবং বিশেষ করে শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতিচিহ্ন ও আদর্শের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের ব্যানার-ফেস্টুন ভাঙচুর এবং আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত দেয়ালচিত্র পরিবর্তন করে দলীয় পোস্টার লাগানোর মতো একাধিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ ও নাটোর জেলা শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্মৃতির প্রতি অবমাননাকারী ছাত্রদল সভাপতি এস এম জুবায়েরের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেখানে পুনরায় গ্রাফিতি অঙ্কন করার দাবি জানিয়েছেন।







