কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের জেরে বটি দিয়ে নিজের স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা করেছেন মনে করে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন মোহাম্মদ কাজল (২৮) নামে এক যুবক। তবে ভাগ্যক্রমে তার স্ত্রী ইভা আক্তার অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোররাতে বুড়িচং উপজেলার জিয়াপুর গ্রামে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত কাজল উপজেলার বলরামপুর গ্রামের মো. আব্দুল হান্নানের ছেলে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে জিয়াপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ইভা আক্তার স্থানীয় একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাজল নিজে থানায় এসে দাবি করেন যে তিনি তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। ঠিক একই সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকেও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, ইভা আক্তার তখনও জীবিত আছেন, তবে তার গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে।
রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাড়ির মালিক জহিরুল ইসলাম জানান, ভোররাতে কাজল নিজেই তার কাছে এসে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে ঘরে ঢুকে ইভাকে জীবিত দেখে তারা ৯৯৯ নম্বরে কল দেন।
আহত ইভা আক্তারের বড় বোন নিপা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই কাজল যৌতুকের টাকার জন্য তার বোনকে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। বিদেশে যাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য ঘটনার আগের দিনও ইভাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। দাবি করা টাকা দিতে না পারায় পরিকল্পিতভাবে তার বোনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কাজল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলেই মামলা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চালানোর পাশাপাশি আহত গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।







