সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই, বরং দেশে পা রাখামাত্রই তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান নির্বাচিত সরকার পর্যন্ত নিয়মিত তাগাদাপত্র দিয়ে যাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) অনুযায়ী তাঁকে ফেরত চাওয়া হচ্ছে যাতে তিনি দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হন। তবে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য স্পষ্ট করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শেখ হাসিনা যেহেতু ইতোমধ্যে আদালতে দণ্ডিত (কনভিক্টেড), তাই তাঁর নতুন করে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই; দেশে এলেই তাঁকে গ্রেফতার করে সাজা কার্যকর করা হবে। অবশ্য আপিলের কোনো আইনি সুযোগ থাকলে তা আদালত বিবেচনা করবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের জন্য সরকারের নেওয়া কল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রতিটি শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক-শ্রেণির আহতদের জন্য ৫ লাখ, খ-শ্রেণির জন্য ৩ লাখ এবং গ-শ্রেণির আহতদের জন্য ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য স্থায়ী মাসিক ভাতাও চালু করা হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করা হবে বলেও তিনি জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ এবং এর ধারাবাহিকতায় প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। সংসদে এই দুটি ঐতিহাসিক অর্জনের কথা যথাযথভাবে উঠে না আসায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সুরক্ষা, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার এই সনদে করা হয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আদালতে তাঁর ফাঁসির সাজা হয়। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন এবং দেশে ফিরে তিনি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য শেখ হাসিনার সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এলো।







