পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। বুধবারের নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগের দিন মঙ্গলবার এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আঞ্চলিক নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মূলত নির্বাচনী ব্যবস্থায় আঞ্চলিক আইনসভার ১২টি আসন পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
পুঞ্চ বিভাগের কমিশনার ওয়াহিদ খান জানান, পুঞ্চ সেক্টরে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি চলন্ত গাড়িবহর আটকে দিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলিবর্ষণ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, তারারখাল এলাকায় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ছয়জন বিক্ষোভকারী এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এছাড়া রাওয়ালকোটে পৃথক আরেকটি সংঘর্ষের ঘটনায় একজন বিক্ষোভকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রাণ হারান।
এর আগে গত জুনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় পাকিস্তান সরকার জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সংগঠনটি বুধবার রাওয়ালকোটে একটি বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুঞ্চের কমিশনার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক আন্দোলন ও সহিংসতায় অঞ্চলটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে এই প্রাণহানির ঘটনা কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।







