শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়টি নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনায় সম্মতি জানিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আলোচনায় সরকারের কোনো আপত্তি নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সংসদে বক্তব্য দিতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে আলোচনার সময় বিরোধীদের হট্টগোল বা বিশৃঙ্খলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন রিজিজু। সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়ে সরকার বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধীদের তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।
রিজিজু বলেন, সরকারের অবস্থান পরিষ্কার—শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলি নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হতে পারে। তার অনুরোধ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও সরকারের জবাব দেওয়ার সময় যেন কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা না হয়।
সরকারের এই অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ‘দ্য হিন্দু’তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অমিত শাহের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো তদন্তের নির্দেশ দেননি এবং এ নিয়ে সংসদেও কোনো বক্তব্য দেননি। এমনকি এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার জন্য বিরোধীদের দেওয়া প্রস্তাবও বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাহুলের ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও পেলেট ব্যবহার করা হয়েছে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। নারীদের পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ওপরও পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া বিহারের সিওয়ানে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে আগ্নেয়াস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এ ধরনের বেআইনি ও অসাংবিধানিক সহিংসতার অনুমোদন কে দিয়েছিল।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। গত ২০ জুলাই রাজধানীর যন্তর মন্তরে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ সংসদের দিকে মিছিল করে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। পরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনার বিষয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করে আসছে বিরোধীরা।
এর আগে গত সপ্তাহে রাজ্যসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ২০ জুলাইয়ের পুলিশি অভিযানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন। এর জবাবে রিজিজু বলেছিলেন, কোন মন্ত্রী কখন সংসদে বক্তব্য দেবেন, সেটি বিরোধীরা নির্ধারণ করতে পারে না।
অমিত শাহ সংসদে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না—বিরোধীদের এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন রিজিজু। তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিদিন সংসদ চত্বরে আসেন এবং সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে থাকেন।
রিজিজুর অভিযোগ, বিরোধীরা অনেক সময় স্লোগান দিতে দিতে সংসদ থেকে বেরিয়ে যান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে তা শোনেন না। সংসদের কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটিয়ে সরকারের বক্তব্য শোনার জন্য বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে শিক্ষার্থী আন্দোলন ও পুলিশের অভিযানের বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় সরকারের সম্মতির ফলে বিষয়টি নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি







