ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’ ও চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ জব ফেয়ার। ডাকসুর সাম্প্রতিক সফল চীন সফরের ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এই বিশেষ চাকরি মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হয়েছে বহুজাতিক সংস্থায় ৪৩০টি কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ।
ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন খানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সোমবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনব্যাপী এই কর্মসূচির সূচনা হয়। উদ্বোধনী পর্বে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস. এম. ফরহাদ, ঢাকার চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর লি শাওপেংসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও চীনের ঐতিহ্যবাহী ‘লায়ন ড্যান্স’-এর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়। হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেড ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফ্রিতে বছরব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে।
আয়োজকদের তথ্যমতে, জব ফেয়ারে চীনের ৩১টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে কোনো প্রকার লেনদেন বা প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে উচ্চবেতনের পদের বিপরীতে নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেওয়ার সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ‘সিনো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ’ স্কলারশিপ ও বার্সারি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি ২০২৬ সালের জন্য চাইনিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে যাত্রাপূর্ব বিশেষ ওরিয়েন্টেশনের আয়োজনও করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক কাজের বাজারে যুক্ত করার এই উদ্যোগকে এক নজিরবিহীন সফলতা হিসেবে আখ্যা দেন ডাকসুর নেতারা। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গড়ে তুলতে এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে তিনি জানান, এই সফরের ধারাবাহিকতায় নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দূরীকরণে চীনা অর্থায়নে ১,৫০০ আসনের একটি আধুনিক হল নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
