বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজেটের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেল দুই বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিতে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর আওতায় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যদিকে বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সর্বশেষ সরকারি পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। অর্থাৎ সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পেয়ে আসছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতি আশানুরূপ না হওয়ায় প্রস্তাবিত পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, এক বছরের মধ্যে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হতে পারে। একই সঙ্গে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কাটছাঁটেরও প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত এডিপির প্রায় ৮০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়। ফলে চলতি বছরের ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপির অব্যবহৃত অংশ থেকে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা পে-স্কেল বাস্তবায়নে কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে তাঁর মতে, উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি আরও বেশি জরুরি ছিল।
তিনি আরও বলেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বাজারে অর্থের সরবরাহ বাড়বে, কিন্তু একই অনুপাতে পণ্য ও সেবার সরবরাহ না বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। বর্তমানে দেশ ৮ থেকে ৮ দশমিক ৫ শতাংশের মতো উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে মূল্যস্ফীতি যোগ হলে বাসাভাড়া, যাতায়াত, বিনোদন এবং খাদ্যপণ্যের—বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের—দাম আরও বাড়তে পারে।
এ ধরনের বাড়তি মূল্যস্ফীতি বেসরকারি খাতে কর্মরত এবং স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিত মানুষের ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
