সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর খসড়া উদ্যোগের প্রতিবাদে চরম ক্ষোভ ও সন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তাল বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্দোলনের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
প্রস্তাবিত নতুন খসড়া নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী, গ্রেডভেদে মৌখিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর রাখার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর মাত্রাতিরিক্ত বাড়ানো হলে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে এর সুযোগ নিয়ে নিয়োগ-বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) মঙ্গলবার রাতে ঢাবি ক্যাম্পাসে এক বিক্ষোভ মিছিলে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর এই উদ্যোগকে ‘নব্য কোটা’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। অনুরূপভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাকসু’, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জকসু’র ব্যানারে গভীর রাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজেও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ (চাকসু), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সরকারি তিতুমীর কলেজের জাতীয় ছাত্রশক্তি নিজ নিজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মানববন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মেধা অবমূল্যায়নের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে সারা দেশে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে ‘বিশেষ বিধান বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে যেখানে লিখিত পরীক্ষায় ৭০ ও মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ শতাংশ নম্বর বরাদ্দ থাকে, সেখানে নতুন প্রস্তাবনায় ১৭-২০তম গ্রেডে মোট ৫০ নম্বরের মধ্যে লিখিত ২৫ ও মৌখিক ২৫; ১৩-১৬তম গ্রেডে ১০০ নম্বরের মধ্যে লিখিত ৬০ ও মৌখিক ৪০ এবং ১১-১২তম গ্রেডে ১৫০ নম্বরের মধ্যে লিখিত ১০০ ও মৌখিক ৫০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালা প্রণয়নের যৌক্তিকতা হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে অসদুপায় অবলম্বনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতেই ভাইভায় জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, এই অজুহাতে ভাইভার নম্বর বাড়ানো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; বরং তা অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার পথকে আরও সুগম করবে।
