নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু করা বিশেষ ‘পিংক বাস’ সেবা পরিচালনা করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। টিকিট বিক্রি থেকে আসা আয় দিয়ে জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালক-কর্মচারীদের বেতন ওঠানো সম্ভব না হওয়ায় প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। ফলে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করেই আপাতত টিকিয়ে রাখা হয়েছে এই সেবা।
বিআরটিসির আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের পরিচালন তথ্যে দেখা যায়, টিকিট বিক্রির আয়ের চেয়ে কেবল ডিজেল ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ খরচ দ্বিগুণেরও বেশি। উদাহরণস্বরূপ, সেপ্টেম্বর মাসের ১২ কার্যদিবসে ১৫৮টি ট্রিপ পরিচালনা করে আয় হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৮ টাকা। অথচ একই সময়ে বাসগুলোর জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতেই সর্বনিম্ন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা। কর্মীদের বেতন ও প্রশাসনিক খরচ যুক্ত করলে ঘাটতির পরিমাণ আরও বাড়ে।
প্রত্যাশিত যাত্রী না পাওয়া লোকসানের অন্যতম প্রধান কারণ। ৬০ আসনের বাসে গড়ে ২০টি আসনই খালি থাকছে। প্রতি ট্রিপে অন্তত ১২০ জন যাত্রী পাওয়া গেলে এই সেবা লোকসান এড়িয়ে ‘ব্রেক-ইভেনে’ পৌঁছাতে পারত বলে বিআরটিসি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া বেসরকারি ও সাধারণ পরিবহন প্রতিদিন চললেও নারীদের এই বিশেষ বাসসেবা শুক্র ও শনিবার বন্ধ রাখা হয়, যা যাত্রীসংখ্যা ও সম্ভাব্য আয় দুটোই সীমিত করছে।
বিআরটিসির ব্যবস্থাপক মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, লাভ-ক্ষতির চেয়ে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবার বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। শুরুতে লোকসান বেশি হলেও বাসের সংখ্যা ও যাত্রী পরিধি বাড়লে ধীরে ধীরে এই সরকারি ভর্তুকির চাপ কমে আসবে। উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার ১৩টি রুটে মোট ১৪টি বাসের মাধ্যমে এই বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ কার্যক্রম শুরু হয়।







