কওমি মাদরাসা ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী। তিনি বলেছেন, আলেমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও ঐক্যে ফাটল ধরানোর নানা অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো মূল্যে এই ঐক্য বজায় রাখা হবে।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত ‘ষড়যন্ত্রের কবলে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ও কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য সংরক্ষণে ওলামায়ে কেরামের দায়িত্ব ও কর্তব্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, ইসলামি শিক্ষা ও কওমি মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশ ও জাতির নৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপনের মাধ্যমে আলেমদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আলেম সমাজকে বিভক্ত করা সম্ভব হবে না। দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ওলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
মাদরাসা শিক্ষার মান ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। কোনো মাদরাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনায় সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।
এ সময় সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত হেবা আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন আলেম সমাজ মেনে নেবে না। এ ধরনের আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
দেশের ৬৫০টিরও বেশি মাদরাসার সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় মাদরাসা শিক্ষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক অবদান, প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় আলেম-ওলামা, মাদরাসা পরিচালক ও সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদরাসা শিক্ষা বাংলাদেশের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ শিক্ষাব্যবস্থার স্বকীয়তা, পাঠ্যক্রমের স্বাতন্ত্র্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে নীতিনিষ্ঠ, যুক্তিনির্ভর ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে। মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি, বৈষম্য কিংবা অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা দেখা দিলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, শাইখুল হাদিস মুফতি সালাউদ্দিন, মাওলানা ফজলুর রহমান, মুফতি শামসুদ্দিন কাসেমী, মোহাম্মদ রাজ (নওমুসলিম), মুফতি নজিরুল ইসলাম, মুফতি রফিকুল ইসলাম নূরানী, মুফতি মাহমুদুল হক হাফেজ্জী, মুফতি ওমর ফারুক সিরাজী, মুফতি মোজাম্মেল হক, মাওলানা রঈস উদ্দিন, মুফতি আহসান হাবিব, মাওলানা মোবাশ্বের হোসেন, মাওলানা আবির মোহাম্মদ রওশন ও মাওলানা মোস্তফা কায়ছারসহ অনেকে।
