জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বিতর্কের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার প্রতিনিধিদলের মধ্যে এক উত্তপ্ত ও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যকার চরম বাকবিতণ্ডা থামাতে হিমশিম খেতে হয় সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে আলোচনা চলছিল। সে সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ কিউবা সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য চলাকালীন কিউবার প্রতিনিধিদল তীব্র আপত্তি জানায় এবং টেবিলে চাপড়ে প্রতিবাদ করতে থাকে। একপর্যায়ে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লা নিজের আসন ছেড়ে সরাসরি পডিয়ামের বা বক্তৃতামঞ্চের কাছাকাছি এগিয়ে যান।
পরিস্থিতি আরও অবনতি হয় যখন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক ওয়াল্টজকে সরাসরি ‘মিথ্যাবাদী’ বলে অভিযুক্ত করেন। এর জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “আপনি আমাকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ভয় দেখাতে পারবেন না। আপনি পেছনে যান! এটা হাভানা নয়, এটা আমেরিকা। আপনি কি জানেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন?”
দুই দেশের উচ্চপদস্থ এই কূটনীতিকদের মুখোমুখি আক্রমণাত্মক অবস্থানে পুরো জাতিসংঘ সভাকক্ষে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রের বাইরে চলে যাওয়ায় সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান বারবার উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার তাগিদ দিলেও কাজ হয়নি।
শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শেষ পর্যন্ত সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন সভাপতি খলিলুর রহমান।
পরে পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা হলে অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়। এ সময় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়মতান্ত্রিক বা প্রক্রিয়াগত আপত্তির মধ্যে নিজের বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাময়িক অবসান ঘটে।
