সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল এবং তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
কাজের ঠিকাদার ও তাহিরপুরের বাদাঘাটের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এবং পরবর্তীতে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এমপি নুরুল ইসলাম।
অভিযোগকারী ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম (ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী) জানান, তিনি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিরখলা-১ ব্রিজ ও সালামপুর ব্রিজের প্রায় ৮৭ কোটি টাকার নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছেন। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে কাজ বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছিল।
ঠিকাদার তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, এমপি নুরুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে তাঁর কাছে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন। দাবীকৃত টাকা না দেওয়ায় তাঁকে বিভিন্ন উপায়ে চাপ প্রয়োগ, হুমকি এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসের সামনের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় এবং অন্য একটি জলমহালের মাছ চুরির মামলায় তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করেন ঠিকাদার শফিক। এমনকি তাঁর সিলেক্টেড বাসভবনেও পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
সবশেষ গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দেওয়ার দিনই বিকেলে সালামপুর ব্রিজ এলাকা দিয়ে ফেরার সময় এমপি নুরুল ইসলাম নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। এ সময় এমপির লোকজনের হামলায় রোলার চালক মনির, পে-লোডার চালক কবির আহমদ ও সাইট ঠিকাদার হোসেন আহমদ আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ও ৫ অক্টোবর যুবদলের বিভিন্ন নেতার মাধ্যমে তাঁকে ফোন করে এমপির সঙ্গে দেখা করার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান ঠিকাদার শফিক।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়ে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল গণমাধ্যমকে জানান, ঠিকাদার শফিককে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। গত মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে এলাকাবাসী সালামপুর ব্রিজের গার্ডওয়াল নির্মাণে অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগ জানালে তিনি তা দেখতে যান।
উন্নয়নমূলক কাজে চাঁদা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না উল্লেখ করে এমপি নুরুল ইসলাম বলেন, “মূলত নিজেদের লুটপাট ও কাজের অনিয়ম ঢাকতেই ঠিকাদার এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগের আশ্রয় নিয়েছেন। কাজ নিয়ে কথা বলায় আমার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।” পুলিশ দিয়ে হয়রানির বিষয়ে তিনি বলেন, মামলা থাকলে পুলিশ আইনের গতিতে কাজ করবে, এখানে তাঁর কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, কাজের গতি কিছুটা মন্থর রয়েছে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
