সরকারের বিতরণ করা বিভিন্ন কার্ডের সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। যশোরে ১১ দলীয় জোটের এক পথসভায় উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান, তাঁদের কেউ এসব কার্ড পেয়েছেন কি না। এ সময় উপস্থিত কেউ হাত না তোলায় কার্ড বিতরণের স্বচ্ছতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোরের মুড়সী মোড়ে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
‘জনগণের টাকার কার্ড কোথায় গেল?’
কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে সাধারণ মানুষ সেই সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, যাঁরা কার্ড পেয়েছেন, তাঁরা যেন হাত তোলেন। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উপস্থিত জনতার মধ্যে কেউ হাত তোলেননি।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, কার্ডগুলো কোথায় গেল এবং কেন সাধারণ মানুষ তা পেলেন না। তাঁর অভিযোগ, জনগণের অর্থে বিতরণ করা এসব কার্ড যথাযথভাবে বণ্টন করা হচ্ছে না। রাতের আঁধারে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের রায় অস্বীকার করার পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আদায় করেই তাঁরা ছাড়বেন।
তিনি আরও বলেন, এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার আগে সরকারের উচিত তাঁদের সাত দফা দাবি মেনে নেওয়া। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটলে পরিণতি ভোগ করতে হবে
বক্তব্যে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটবে, তাদের শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে হতে পারে। অতীতে সাড়ে ১৫ বছর তাঁরা নিজেরাও নির্যাতিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় যারা মজলুম ছিলেন, তাঁরা ক্ষমতায় গিয়ে আবার জুলুম শুরু করবেন—এটি মেনে নেওয়া যায় না।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার
দেশ থেকে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতি নির্মূল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির। একই সঙ্গে দলতন্ত্রের প্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও তাঁরা রাজপথে অবিচল থাকবেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
