বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল কাটছেই না। তদন্তকারীদের মতে, মৃত্যুর আগের রাতের কয়েক ঘণ্টাই এখন ঘটনার আসল রহস্য উদ্ঘাটনের প্রধান সূত্র। এ ঘটনায় পুলিশ পরিবেষ্টিত নানা জটিল প্রশ্ন ও তথ্য সামনে আসছে।
উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারের সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফ ও তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে রহস্যময় এক নারীকে দেখা গেছে। গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তারা তিনজন একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করেন এবং ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে একসঙ্গে বের হন।
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর ওই নারী কোথায় গেলেন এবং তাহসিফ ও দীপ কীভাবে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পৌঁছালেন—তা নিয়ে তদন্ত চলছে। পিবিআই ও নৌ পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে মূল সন্দেহভাজন বন্ধু দীপের দেওয়া বক্তব্যে একাধিক গুরুতর অসংগতি পেয়েছে পুলিশ। মাজার বস্তি সংলগ্ন মাঠে যাওয়া নিয়ে দীপ বারবার তাঁর বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন। একপর্যায়ে তিনি সেখানে যাওয়ার কথা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে পিবিআইয়ের চাপে স্বীকার করেন যে তিনি তাহসিফের সঙ্গে মোটরসাইকেলে সেখানে গিয়েছিলেন।
মাদক সেবনের স্থান হিসেবে পরিচিত টঙ্গীর মাজার বস্তিতে গভীর রাতে যাওয়ার কারণ এবং কীভাবে সাঁতার জানা তাহসিফ পানিতে তলিয়ে গেলেন—তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। দীপের দাবি অনুযায়ী, ইউনিফর্ম পরা দুজন ব্যক্তি তাঁদের ধাওয়া করলে তাহসিফ পানিতে পড়ে যান। তবে এ বক্তব্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি নম্বরপ্লেটহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে, যার ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বরের মাধ্যমে বিআরটিএ থেকে আসল মালিক বের করার চেষ্টা চলছে। তাহসিফ ও দীপ একসঙ্গে যাওয়ার পর ঠিক কোন পরিস্থিতিতে তাঁরা বিচ্ছিন্ন হলেন এবং তাহসিফকে রেখে দীপ একা কেন ফিরলেন—সেটিই বড় প্রশ্ন।
তাহসিফের ওয়াটারপ্রুফ আইফোনটি চার্জে দিয়ে সচল করার পর তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। এর আগে ৩ দিন পর শুক্রবার রাতে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। মামলায় বন্ধু দীপের ভূমিকা ও অসংগতিপূর্ণ বক্তব্যে গভীর ক্ষোভ ও প্রশ্ন প্রকাশ করেছেন তিনি।
আদালত সন্দেহভাজন হিসেবে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। অন্যদিকে ভিসেরা, রক্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা পাঠানো হয়েছে; ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণের পরেই তাহসিফকে হত্যা করা হয়েছে নাকি কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
