লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের কাজ কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিকভাবে পাইয়ে দেওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই কারসাজির অভিযোগ এনেছেন যৌথ উদ্যোগের (জয়েন্ট ভেঞ্চার) মূল অংশীদার ‘রিমি নির্মাণ লিমিটেড’-এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদুল হক সরকার।
যুবলীগ নেতার পরিচয় ও মামলা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ‘আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড’-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আবদুল হাই কেন্দ্রীয় যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তাঁর বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলাসহ একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী মামলা দায়ের করা হয়। একাধিক মামলায় তিনি বিভিন্ন সময়ে কারাবরণও করেছেন। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী এলাকার বাসিন্দা আবদুল হাই বর্তমানে ঢাকার শান্তিনগর এলাকায় বসবাস করছেন।
দরপত্র ও অনিয়মের চিত্র
দরপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার-সোনারপুর সড়কের কমলনগরের হাজিরহাট থেকে আজাদনগর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে আড়াই ফুট প্রশস্তকরণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে সওজ। উক্ত দরপত্রে ‘আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড’ ও ‘রিমি নির্মাণ লিমিটেড’ যৌথভাবে অংশগ্রহণ করে এবং সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ১৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার টাকার কার্যাদেশ পায়।
নিয়ম অনুযায়ী যৌথ দরপত্রের লিড পার্টনার হিসেবে সব কার্যপদ্ধতি ‘রিমি নির্মাণ লিমিটেড’-কে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও, লক্ষ্মীপুর সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম সব নিয়ম ভেঙে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে যুবলীগ নেতা আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে কাজ করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করেন।
লিড পার্টনারের অভিযোগ ও ক্ষোভ
রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল হক সরকার জানান, কাজের চুক্তি হওয়ার পর থেকেই আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড গা ঢাকা দেয় এবং সওজ-এর একাধিক চিঠির কোনো জবাব দেয়নি। তাছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে যুবলীগ নেতা আবদুল হাই যৌথ চুক্তিতে অংশ নেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “একজন নিখোঁজ ও হত্যা মামলার আসামিকে সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী সম্পূর্ণ অসাধু উপায়ে স্ট্যাম্প চুক্তির মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে জুলাই হত্যাকাণ্ডের আসামির সঙ্গে আঁতাত করে সরকারের মেগা প্রকল্পে এই ভয়াবহ অনিয়ম করা হয়েছে। লিড পার্টনারকে বাদ দিয়ে করা এই অনৈতিক চুক্তির ফলে কাজের মান খারাপ হলে তার দায় কে নেবে?”
তিনি এ ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বিচার দাবি করেন।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
-
সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী: অভিযোগ অস্বীকার করে লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “উভয় পক্ষ ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে যৌথ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে উল্লেখ আছে ব্যাংকিং ও দাপ্তরিক বিষয়গুলো আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড পরিচালনা করবে। সওজ নিয়ম অনুযায়ীই কাজ করছে।”
-
অভিযুক্ত ঠিকাদার: অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আবদুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
