সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগের মুখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজাকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির যৌথভাবে এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পরই কেন্দ্রীয় সংসদের পর্যালোচনা সাপেক্ষে তাঁকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সিদ্ধান্তের আগে বহিষ্কৃত নেতা সেলিম রেজার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পাহাড়সম অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ, জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।
এছাড়াও ক্যাম্পাসের একটি ভ্রাম্যমাণ খাবারের কার্ট মালিকের কাছে চাঁদা দাবি, দোকান দখল এবং খোদ ছাত্রদলেরই এক নেতার বোনের পারিবারিক বসতবাড়ি দখলের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে যানবাহন আটকে রেখে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বহিষ্কৃত জাবি নেতা সেলিম রেজা। তাঁর দাবি, উত্থাপিত অভিযোগের পেছনে কোনো সত্যতা নেই; বরং একটি রাজনৈতিক পক্ষ তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে সামাজিকভাবে হেনস্তা ও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র করেছে।
