গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভাগীয় সভাপতি, অনুষদের ডিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দলীয়ভাবে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের বসানোর স্পষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এবং এসব পদের যোগ্য শিক্ষকদের একটি তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কাছে চেয়েছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই বিতর্কিত নির্দেশনা ও প্রকাশ্যে আহ্বান জানান সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হলে বর্তমান সরকারের হাত শক্তিশালী করতে স্থানীয়ভাবে কাজ করা জরুরি। শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে ডা. বাবর বলেন, দিনটি স্রেফ কোনো সাধারণ দিবস নয়; এটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের প্রধান পথনির্দেশক। সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন এবং দেশকে আত্মনির্ভরশীল করতে নানা পদক্ষেপ নেন। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বলেন, দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতে হলে ব্যক্তি বা দলের ঊর্ধ্বে বাংলাদেশকে স্থান দিতে হবে। ‘বাংলাদেশ সবার আগে’ চেতনা ধারণ করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মাদ আতাউর রহমান উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সূচনা হয়েছিল। অন্যদিকে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. খসরুল আলম বলেন, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তরুণ সমাজ তথা শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. মাহবুব হাসান, সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম আহসান, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের এবং গোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার আগে সকাল ১১টায় প্রশাসনিক ভবন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে জোহর নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল ও বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
