কর্মস্থলে ফাঁকি দেওয়া, নির্ধারিত দায়িত্ব ও অঙ্গীকার রক্ষা না করা এবং যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে নিয়ম মেনে কর্মস্থল ত্যাগ না করা মূলত এক ধরনের প্রতারণা। চাকরির পুরো সময়টা সততার সঙ্গে কাজ না করলে কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রাপ্ত বেতন কখনো সম্পূর্ণ হালাল বা বৈধ হতে পারে না। তাই নিজ সন্তান ও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য সবসময় হালাল ও পবিত্র উপার্জনকে জীবনের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।
ইসলামী শরিয়তে হারাম উপার্জনের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে প্রিয়নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি হারাম পন্থায় সম্পদ অর্জন করে তা থেকে দান-খয়রাতও করে, তবুও তা মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। এমনকি ওই অবৈধ সম্পদের কোনো বরকতও সে পায় না, বরং মৃত্যুর পর ওই পরিত্যক্ত হারাম সম্পদই তার জাহান্নামে যাওয়ার পাথেয় বা সম্বল হয়ে দাঁড়াবে।
হারাম উপার্জনের প্রভাব কেবল দুনিয়াবি জীবনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানুষের ইবাদত-বন্দেগি কবুলের ক্ষেত্রেও বড় অন্তরায়। নবীজি (সা.) এক হাদিসে সতর্ক করে বলেছেন, বহু মানুষ দূরদূরান্ত থেকে দীর্ঘ সফর করে পবিত্র কাবা শরিফে হাজির হন এবং অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অথচ তাঁদের সে দোয়াই কবুল হয় না। কারণ, সেই ব্যক্তির পানাহার, খাদ্যসামগ্রী এবং পরিধেয় পোশাক-আশাক সবই হারাম উপার্জনের অর্থে সংগৃহীত। অবৈধ উপার্জনের খাদ্য পেটে রেখে কীভাবে আল্লাহর ইবাদত বা নামাজ-রোজা কবুল হতে পারে? অন্য এক কঠোর হাদিসে বলা হয়েছে, কেউ হারাম উপার্জনের একটি মাত্র লোকমা পেটে প্রবেশ করালে পরবর্তী ৪০ দিন পর্যন্ত তার কোনো নামাজ, রোজা বা ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
কর্মচারী ও অধীনস্তদের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধ্যের অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়াও সম্পূর্ণ অনুচিত। ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় অত্যন্ত স্পষ্ট ও চূড়ান্ত নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। মানবতার নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শ্রমিকের হক আদায়ে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার ন্যায্য পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও।’
অথচ বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায়। অনেক কর্তাব্যক্তি ও মালিকপক্ষ কর্মচারীদের কাছ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কাজ আদায় করে নিলেও ন্যায্য পারিশ্রমিক বা বেতন পরিশোধের সময় নানা টালবাহানা ও গড়িমসি করেন। শ্রমিকের হক আদায়ে এই অবহেলা ও হেলাফেলা করার কারণে সংশ্লিষ্টদের জন্য পরকালে রয়েছে অত্যন্ত কঠোর ও ভয়াবহ শাস্তির বিধান।







