নরসিংদীর পলাশে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে মারধর করার পাশাপাশি কামড় দিয়ে তাঁর কান জখম করার অভিযোগ উঠেছে মহিউদ্দিন চিশতিয়া নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। সোমবার বিকেলে উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মহিউদ্দিন চিশতিয়া ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কানের মধ্যে কামড় ও বেধড়ক মারধরে গুরুতর আহত সাখাওয়াত হোসেন বর্তমানে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি গাজীপুরের কালীগঞ্জের ফিরোজ আলীর ছেলে। চিকিৎসকরা তাঁর কানে চারটি সেলাই দিয়েছেন এবং তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুটমিলের অভ্যন্তরে টি কে গ্রুপের একটি নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের বালু ভরাটের কাজের জন্য তিনি শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করেছিলেন। সোমবার বিকেলে ড্রেজার মেশিনের শ্রমিকদের বেতন দিয়ে ফেরার পথে মোটরসাইকেলে চড়ে আসা কয়েকজন লোক তাঁকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনের বাড়িতে নিয়ে যায়।
সাখাওয়াতের অভিযোগ, মহিউদ্দিনের বাড়িতে তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে মহিউদ্দিনসহ আরও ৬ থেকে ৭ জন মিলে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও চড়থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে ওই বিএনপি নেতা তাঁকে না জানিয়ে কেন ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে—এই প্রশ্ন তুলে রাগের মাথায় তাঁর কানের মধ্যে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত করেন। পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেজার মেশিন সরিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া সোমবার রাতে সাংবাদিকদের জানান, সকালে তাঁর প্রোগ্রাম রয়েছে এবং তিনি ঘুমাতে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে এই ঘটনার সত্য-মিথ্যা সব বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







