রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার (১৫ নভেম্বর) আয়োজিত আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন নতুন চার দফা কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এ অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং দেশ–বিদেশের প্রখ্যাত আলেমরা অংশ নেন।
মহাসম্মেলনে চার কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফ্ফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী। তিনি বলেন, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা না হলে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ঘোষিত চার কর্মসূচি
১. আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ
২. মে ও জুন মাসে দেশের প্রতিটি জেলার ডিসিকে স্মারকলিপি প্রদান
৩. জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিভাগে বিভাগীয় খতমে নবুওয়ত সম্মেলন
৪. দাবি আদায় না হলে ডিসেম্বর মাসে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ
রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্রপরিচালনায় আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি আরও বলেন, খতমে নবুওয়ত কমিটির দাবি বাস্তবায়নে আইনি উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে মুসলিম দুনিয়ায় কোনো মতভেদ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দেশ–বিদেশের শীর্ষ আলেমদের উপস্থিতি
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটির আমির মাওলানা আবদুল হামিদ (পীর সাহেব, মধুপুর)।
এ ছাড়া পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম প্রধান ও জাতীয় পরিষদের সদস্য মাওলানা ফজলুর রহমান, দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানি, মিসর, সৌদি আরব ও ভারতের বিশিষ্ট আলেমরা সম্মেলনে বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশের শীর্ষ ওলামাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বেফাক চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেকসহ অনেকে।







