বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের ‘কথিত পরকীয়া’ নিয়ে জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) খোন্দকার আবু আশফাকের দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্চ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে, একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ সংসদে আলোচিত হোক তা তিনি চান না—নিজের দেওয়া এমন বক্তব্যও কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার।
রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১১তম কার্যদিবসে স্পিকার নিজেই সংসদকে এই তথ্য জানান।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক বলেছিলেন, মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বাজেট নিয়ে তিনি সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে একটি নারীসহ ধরা পড়লেন, মুতা বিয়ের নামে, সেটা আসলে কী ছিল? সেদিন সংসদে আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া এখনো তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক তিনি চান না।
এ বিষয়টির সূত্র ধরে রোববার অধিবেশনে স্পিকার সংসদের উদ্দেশে বলেন, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা-১ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক হেফাজতে ইসলামীর নেতা মাওলানা মামুনুল হক সম্পর্কে কথিত পরকীয়া নিয়ে দুই-একটি মন্তব্য করেছেন, যা অনভিপ্রেত। যেহেতু যার সম্পর্কে বলা হয়েছে, তার সংসদে এসে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ নেই, তাই তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। এই কারণে আবু আশফাকের বক্তব্য এক্সপাঞ্চ করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্পিকার জানান, কোনো ব্যক্তির জীবনের অন্ধকার অধ্যায় সম্পর্কে তার নিজের মুখে যে কথাটি এসেছিল, সেটিও এক্সপাঞ্চ করা হলো। ভবিষ্যতে বাজেট বক্তব্যসহ অন্যান্য বক্তৃতায় সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যার পক্ষে এখানে এসে নিজেকে ডিফেন্ড করা সম্ভব নয়, তার উদ্দেশে যেন কোনো বিরূপ মন্তব্য করা না হয়।
এদিকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি মো. জালাল উদ্দীন একটি বিষয় উত্থাপন করে বলেন, চলতি সংসদে গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিম বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করেছেন, যা অসত্য। কারণ তার পিতা এখনো জীবিত আছেন। এই অসত্য বিবৃতিটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্চ করার দাবি জানান তিনি।
জবাবে স্পিকার বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডার না হলেও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তার চেম্বারে এসে দেখা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে ভুলক্রমে মুখ থেকে এটি বেরিয়ে গেছে। ওই সংসদ সদস্য নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করায় এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বা ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে বিবেচনা করে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্চ করা হবে বলে জানান স্পিকার।
এরপর আরেকটি পয়েন্ট অব অর্ডারে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন অভিযোগ করেন, দুদিন আগে মুন্সিগঞ্জে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ওই এলাকার মানুষকে কটাক্ষ করে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ এনেছেন, যা মুন্সিগঞ্জের মানুষের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত। বিরোধীদলীয় নেতা যখন সংসদে থাকবেন, তখন এর ভিত্তি নিয়ে তিনি কথা বলবেন বলে জানান।
তবে স্পিকার এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার হতে পারে না। বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা আছে এবং রাজনীতিবিদরা বাইরে অনেক কথাই বলে থাকেন। সংসদের বাইরের কথা সংসদের বাইরেই জবাব দেওয়া ভালো। সংসদের ভেতরে যদি কোনো আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয় বা কারও নাম উল্লেখ করা হয়, তবেই বিধিমোতাবেক জবাব দেওয়া বা আপত্তির সুযোগ থাকবে বলে মন্তব্য করেন স্পিকার।







