নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়া জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন অনিয়ম ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত নেতার ভবিষ্যৎ কোনো কর্মকাণ্ড বা অপকর্মের দায় সংগঠন বহন করবে না। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ তাকে আটক করে বলে জানা গেছে।
পরে বিকেল ৫টার দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী সাংবাদিকদের জানান, সজীবকে কিছু অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদল থেকে সজীবকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে তার সঙ্গে যুবদলের কোনো সম্পর্ক নেই।
সজীবের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং তাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।







