চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার পেছনের মূল কারণ ছিল বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার ‘প্রার্থিতা আটকে দেওয়া’। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আইয়ুব আলী (৪৫) নামের এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে এই তথ্য জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গ্রেপ্তার হওয়া আইয়ুব আলী এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৯ নম্বর আসামি। র্যাবের ভাষ্যমতে, তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, অস্ত্র ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে আরও পাঁচটি মামলা রয়েছে।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুপছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইয়ুব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রার্থিতা ও হত্যার পরিকল্পনা
র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহত যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্য বেতাগী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আসন্ন বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি যাতে কোনোভাবেই এই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যার এই নির্মম পরিকল্পনা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে ওষুধ কিনতে গেলে মাসুদুল হক চৌধুরীকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা
হত্যাকাণ্ডের একটি লোমহর্ষক ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অস্ত্রধারীরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল চৌমুহনী বাজারে আসে। গাড়ি থেকে নেমেই তারা যুবদলের এই নেতাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। মাসুদুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরেও অস্ত্রধারীদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে পুনরায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ঘাতকরা ফাঁকা গুলি করতে করতে আবার অটোরিকশায় উঠে নির্বিঘ্নে চলে যায়। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, হামলাকারীদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুইজনের হাতে লম্বা আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, প্রধান আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান
এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পিয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে গত ১৬ জুন রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দায়ের করা এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চট্টগ্রামের জোড়াখুনসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানকে, যিনি এলাকায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদ’-এর প্রধান অনুসারী হিসেবে পরিচিত।







