জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ‘মবোক্রেসি’ হিসেবে উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানালেও তা নাকচ করে দিয়েছেন স্পিকার।
সোমবার (২২ জুন) বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় দলটির মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচিকে এক সদস্য ‘মবোক্রেসি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শব্দটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করার অনুরোধ জানান।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মবোক্রেসি’ কোনো অশ্লীল শব্দ নয় এবং এটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার মতো অসংসদীয় শব্দও নয়। তিনি রাশেদুল ইসলামকে পরামর্শ দেন, বাজেটের ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় চাইলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জবাব দিতে পারেন।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘মবোক্রেসি’ শব্দটির অর্থ ইতিবাচক নয় এবং এটি আপত্তিকর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি বলেন, বাজেট-পরবর্তী কর্মসূচি শুধু জামায়াত নয়, অতীতে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও পালন করেছে। সেসব কর্মসূচিকেও কি তাহলে ‘মবোক্রেসি’ বলা হবে—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি শব্দটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
তবে স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে বলেন, ‘মবোক্রেসি’ বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক পরিভাষা। বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তৃতা ও আলোচনায় শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। এটি অশ্লীল বা অসংসদীয় নয়, তাই এক্সপাঞ্জ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
স্পিকার আরও বলেন, সদস্যরা চাইলে নিজেদের বক্তব্যেও শব্দটি ব্যবহার করতে পারেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মবোক্রেসি’ মূলত গণতান্ত্রিক চর্চার নেতিবাচক বা নিন্দনীয় দিক বোঝাতে ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক শব্দ; এটি কোনোভাবেই অশালীন নয়। ফলে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে শব্দটি বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।







