সরকারের ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি অভিযোগ করেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশ ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় সম্পাদকীয় কমিটির বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে এখনো সুশাসন প্রতিষ্ঠা কিংবা উল্লেখযোগ্য উন্নতির দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। অন্যদিকে, তৈরি পোশাকশিল্প ও জনশক্তি রপ্তানি খাতেও নতুন করে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব খাতে অস্থিরতা তৈরি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, একটি বেতন কাঠামোকে কেন্দ্র করে তৈরি পোশাকশিল্পে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা ধীরে ধীরে অন্যান্য পেশার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশ পরিচালনায় সব পক্ষকে সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার অভাবে বিরোধী দলও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে সংসদ ও রাজনৈতিক পরিসরে বিরোধী দল যাতে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে, সে জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সভায় এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, আমিনুল ইসলাম, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল ও ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী রাজা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন, রাজশাহী অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, বরিশাল অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির এবং খুলনা অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ ইয়ামিনুর রহমান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক মিয়া মো. তৌফিক, সড়ক ও যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী ড. শাহেদুল ইসলাম, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, শিক্ষা সম্পাদক ওমর ফারুক, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু হেলাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ এবং স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্যসচিব তোফাজ্জল হোসাইন রমিজসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
